Friday, November 7, 2014

এখন ভোর

ভোরবেলাতেই ঘুম ভেঙে যায় আমার । আর বিছানায় ভালো লাগে না । আগে যেমন ঘুমের রেশ কাটতোই না, এখন সেটা একেবারেই অনুপস্থিত ।

হাফহাতা পাঞ্জাবী আর লুঙ্গি পরণে, পায়ে চপ্পল সেঁধিয়ে বেরিয়ে পরি, হরির দোকানের উদ্দেশ্যে ।

গলির চারপাশের বাড়ী থেকে ভেসে আসে রান্নার সুবাস । পাঁচফোড়ন, হলুদ, সরষের তেল, পেঁয়াজ, রসুন- সব মিলিয়ে একটা ফিউশন ।

ভ্যানগাড়ীতে ভর্তি হয়ে চলেছে- শাক, সব্জী বিভিন্ন বাজারের দিকে ।
ভাঙড় থেকে সাইকেল চালিয়ে পাতিপুকুর গিয়ে মাছ নিয়ে আসে ইয়ার আর আসলাম।
গামছা দিয়ে মুখের ঘাম মুছে- হরিকে চা দিতে বলে ।
পরপর ছুটি গেছে বলে, আজ রিক্সা চালকদের ব্যস্ততা তুঙ্গে । ষ্টাণ্ডে বারোখানা রিক্সার প্রত্যেকটা খালি খেপ খেটে যাচ্ছে, বিবেকানন্দ পল্লী থেকে নাগের বাজার বা সাতগাছি।
বেশীর ভাগই স্কুলের ভাড়া ।  অনেকের আবার পুল কার বা স্কুলের বাস আসে গলির মুখে ।

সদ্য ঘুম ভাঙা বাচ্চা গুলো , পিঠে ব্যাগ নিয়ে উঠে পড়ে রিক্সা বা গাড়ীতে ।  আব্দার করে , টফি- বিস্কুট- বা কেকের জন্য ।
কিনে দিয়ে হাতে দিলে ওদের মুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির আভা ।
হাপ বয়েল ডিমের সাদা অংশের মত আকাশে টুকরো মেঘ । তার গায়ে আঁকিবুকি কেটে উড়ে যাচ্ছে যন্ত্রপাখি ।
কয়েকডজন শালিক আর চড়ুই ফুরুৎ ফুরুৎ করে উড়ে খাবার খোঁজে ।
 খাবার আমরাও খুঁটে খাই ওই পাখীদের মত ।

মনের সব কালিমা দূর হয় হয় – এমন সময়ে হরির চায়ের ফার্ষ্ট ইন্সটলমেন্ট হাজির গেলাসে চড়ে ।

শুরু হয়- বিরাটের বিরাটত্বের বাড়াবাড়ি ।

এক ধাক্কায়ে বাস্তবের মাটিতে ।





No comments: