Wednesday, November 5, 2014

রঘুদাস পাল





পাড়ার রঘুকে নিয়ে লিখলে, মহাভারত হয়ে যাবে । আমাদের হরির দাদা- রঘু । না, ডাকাত নয়, তবে মাতাল ।

নাগেরবাজার – হাওড়া রুটে মিনি বাস চালাতে দেখছি, গত আঠেরো বছর ধরে । ষ্টিয়ারিং ধরলে- একটুও মদ খায় না । বলে- গুরুর বারণ ।

দুরন্ত গাড়ী চালায় রঘু । এই তল্লাটে এই রকম মিডিয়াম ভেহিকল চালানোর লোক খুব কমই আছে ।
এমনিতে, বিনয়ী- ভদ্র- কম কথা বলে ।
বাস গ্যারাজ করে – গুরু পাঁচুর আশ্রমে ঢোকে নাগের বাজার মোড়ে । দুটো বোতল সাফ করে ঢোকে পাড়ায় ।

যত তাফালিং শুরু হয়- পাড়ায়  ।

আমার সঙ্গে দেখা হলেই- একটা স্যালুট ঠুকে, বিড়ি দেবে । সঙ্গে পেটেন্ট সংলাপ :- মা কি তোর একার ? ( মদ না খেলে আমায় – আপনি বলে)
স্যালুট ঠোকারও কারণ আছে ।
বছর ১৪/১৫ আগে, ট্রেন লেট থাকার ফলে ;দেরি হয়েছে হাওড়া থেকে আসতে । ভাগ্য ভালো হওয়াতে একটা ২১৯ বাস পেয়েছিলাম ।

প্রায় রাত বারোটায় নামলাম নাগের বাজারে । কি আশ্চর্য- একটা চেনা রিক্সাও পেলাম, পাড়ার ।
একটু এগুতেই দেখি- রঘু হেব্বী কাকুতি মিনতি করছে জীপে বসা কামারডাঙা ফাঁড়ির বড়বাবু- সেন সাহেবের কাছে ।

আমারে ছাইড়া দ্যান ছ্যার ।  মিনি চালাই সারাদিন, তারপরে আর শরিলে দ্যায় না ছ্যার । ওই একটু মদ খাই ।

সেন বাবু মিচকি হাসছেন ।

আমাকে দেখতে পেলো রঘু ।
ও রামকিসনোদা, বড়বাবুরে কইয়া দ্যান না ।

সেন বাবু হেসে বললেন :- নিয়ে যেতে পারবেন আপনার রিক্সাতে ?

কেন পারবো না ? ও আর আমি তো একই পাড়াতে থাকি ।

সে জানি- ব্যাটা এত টলছিল, যে কোনো সময় লরী চাপা পড়তে পারতো, তাই দাঁড় করিয়ে রেখেছিলাম ।

রঘু আস্তে করে এসে উঠলো রিক্সায় । একেবারে স্পিকটি নট ।

গলির মুখটাতে ঢুকতেই গর্জে উঠলো ।

আমারে ছাড়াইলেন ক্যান ?

আমি তো ছাড়াই নি, বড় বাবুই তো ছেড়ে দিয়েছেন ।

রাহেন !  বদনাম করসে আমার  ।

কি ?
আমি নাকি এত মদ খাইসি যে টলতাছিলাম । ঘোরান “রিস্কা” । আজ ইসপার উসপার ।

আমি কেনাকে বললাম – ঘোরা রিক্সা ! রঘুর অপমার সহ্য করা আমার পক্ষেও সম্ভব হচ্ছে না ।

ঘুরিয়ে একটু এগিয়েছি , ওমনি রঘু বলল:-

থাউক গিয়া । অত রাতে আর ক্যাচাল কইরা লাভ নাই, ফেরত চলেন ।

===========
পরের দিন হরির দোকানে আমাকে আর কেনাকে চা খাইয়ে একপাশে ডেকে বলেছিল :-

রাইতের কথা আর কাউরে কইয়েন না ।

এত বছর পর এই আপনাদের বললাম – অবশ্য আগেও বলেছি বোধহয় ।







No comments: