Sunday, December 13, 2009

বাংলা সাহিত্যের কাল্পনিক চরিত্র টেনিদা


টেনিদা নামটা শুনলেই না, কেমন গা ছমছম করে! বাপরে!!!!! এই বুঝি ডালমুট, পাঁঠার ঘুঘনি খেতে চাইবে!প্যালা একবার বলেছিল, হাওড়া, ইষ্টিশনে,জুতো বুরুশ যাচ্ছে, খাবে নাকি টেনিদা? টেনিদার যা চোপা!!!!!!!! তবে টেনিদার সিংহ হৃদয়। আমাদের লীডার।ভজহরি মুখুজ্জে বলে কথা!!!!!!! ম্যাট্রিক দিয়েছে, স্কুল ফাইনাল দিয়েছে, কে জানে হায়ার সেকেন্ডারীও দেবে কিনা!! তবে ৭ বারের চেষ্টায় স্কুল ফাইনাল পাশ করেছে। সিটি কলেজ আবার কাঁঠালে অমাবস্যাতেও ছুটি দেয়। গাবলু মামার আর কোনো খোঁজ নেই, কুট্টি মামা বাঘের দাঁত আর বাঁধালো কিনা বোঝা যাচ্ছে না!

ক্যাবলা [কুশল মিত্র] “ছপ্পর উপর কৌয়া নাচে, নাচে বগুলা” গাইছে না।

হাবুল [স্বর্ণেন্দু সেন] “মেকুরে হুড়ুম খাইয়া হৈক্কর করসে” বলছে না।

প্যালা [কমলেশ বন্দ্যোপাধ্যায়]‍“ বাসক পাতা দিয়ে সিংগি মাছ” খাচ্ছে কিনা জানি না। পটলডাঙায় চাটুজ্জ্যেদের রোয়াকটা কি আর আছে? নাকি ওটাও promoting হয়ে গেছে?

প্যালার দুই বোন- পুঁটি আর আধুলির বিয়ে হয়েছে কি? বাঙ্গালির আজ ঘোর দুর্দিন।

জাগো....................................................


আদ্যা স্তোত্রম্

আদ্যা স্তোত্রম্

ওঁ নম আদ্যায়ৈ

শৃণু বৎস প্রবক্ষ্যামি আদ্যাস্তোত্রম্ মহাফলম।যঃ পঠেৎ সততং ভক্ত্যা স এব বিষ্ণুবল্লভঃ ।।

মৃত্যুর্ব্যাধি ভয়ং তস্য নাস্তি কিঞ্চিৎ কলৌযুগে।অপুত্র লভতে পুত্রং ত্রিপক্ষং শ্রবণং যদি।।

দ্বৌ মাসৌ বন্ধনামুক্তিঃ বিপ্র বক্ত্রাৎ শ্রুতং যদি।মৃতবৎসা জীববৎসা ষন্মাসং শ্রবণং যদি।।

নৌকায়াং সঙ্কটে যুদ্ধে পঠনাজ্জয় মাপ্নুয়াৎ।লিখিত্বা স্থাপয়েৎ গেহে নাগ্নি চৌরভয়ং ক্কচিৎ।।

রাজস্থানে জয়ী নিত্যং প্রসন্নাঃ সর্ব্বদেবতাঃ।ওঁ হ্রীং ব্রহ্মাণী ব্রহ্মলোকে চ বৈকন্ঠে সর্ব্বমঙ্গলা।।

ইন্দ্রাণী অমরাবত্যাম্বিকা বরুণালয়ে।যমালয়ে কালরূপা কুবেরভবনে শুভা।।

মহানন্দাগ্নি কোণে চ বায়ব্যাং মৃগবাহিনী।নৈঋত্যাং রক্তদন্তা চ ঐশানাং শূলধারিণী।।

পাতালে বৈষ্ণবীরূপা সিংহলে দেবমোহিনী।সুরসা চ মণিদ্বীপে লঙ্কায়াং ভদ্রকালিকা।।

রামেশ্বরী সেতুবন্ধে বিমলা পুরুষোত্তমে।বিরজা ওড্রোদেশে চ কামাখ্যা নীল পর্ব্বতে।।

কালিকা বঙ্গদেশে চ অযোধ্যায়াং মহেশ্বরী।বারাণস্যামন্নপূর্ণা গয়াক্ষেত্রে গয়েশ্বরী।।

কুরুক্ষেত্রে ভদ্রকালী ব্রজে কাত্যায়নী পরা।দ্বারকায়াং মহামায়াং মথুরায়াং মাহেশ্বরী।।

ক্ষুধা ত্বং সর্ব্বভূতানাং বেলা ত্বং সাগরস্য চ।নবমী কৃষ্ণপক্ষস্য শুক্লস্যৈকাদশী পরা।।

দক্ষস্য দুহিতা দেবী দক্ষযজ্ঞবিনাশিনী।রামস্য জানকী ত্বং হি রাবণধ্বসং কারিণী।।

চন্ডমুন্ডবধে দেবী রক্তবীজবিনাশিনী।নিশুম্ভশুম্ভমণনী মধুকৈটভঘাতিনী।।

বিষ্ণুভক্তিপ্রদা দুর্গা সুখদা মোক্ষদা সদা।আদ্যাস্তবমিমং পুণ্যং যঃ পঠেৎ সততং নরঃ।।

সর্ব্বজ্বরভয়ং ন স্যাৎ সর্ব্বব্যাধিবিনাশনম্ ।কোটীতীর্থফলং তস্য লভতে নাত্র সংশয়ঃ।।

জয়া মে চাগ্রতঃ পাতু বিজয়া পাতু পৃষ্ঠতঃ।নারায়ণী শীর্ষদেশে সর্ব্বাঙ্গে সিংহবাহিনী।।

শিবদূতী –উগ্রচণ্ডা প্রত্যঙ্গে পরমেশ্বরী।বিশালাক্ষী মহামায়া কৌমারী শঙ্খিনী শিবা।।

চক্রিণী জয়দাত্রী চ রণমত্তা রণপ্রিয়া ।দুর্গা জয়ন্তী কালী চ ভদ্রকালী মহোদরী।।

নারসিংহা চ বারাহী সিদ্ধিধাত্রী সুখপ্রদা।ভয়ঙ্করী মহারৌদ্রী মহাভয় বিনাশিনী।।

ইতি--- ব্রহ্মযামলে ব্রহ্মনারদসংবাদে আদ্যা স্তোত্রম্ সমাপ্তম্ ।


একান্নবর্তী পরিবার

একটু ধান ভাঙ্গতে শিবের গান গাই। মনে হয়, অপ্রাসঙ্গিক হবে না। ঋগ্বেবেদের বিবাহ সূক্তে (১০/৮৫) যে সব উক্তি আছে তার থেকে প্রমাণ পাই যে সেকালে একান্নবর্তী পরিবার ছিল। প্রাসঙ্গিক অংশটিতে পাই, বধূকে আশীর্ব্বাদ সূচক একটি ঋক্ (৪৬) । তাতে যা লেখা আছে, তার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায়- “তুমি শ্বশুরের উপর প্রভুত্ব কর, শ্বশ্রুকে বশ কর, ননদ ও দেবর গণের উপর সম্রাটের মত আধিপত্য কর।‍” বধূ বিবাহের পর এক বিরাট পরিবারের অঙ্গীভূত হত; তাকে শ্বশুর, শাশুড়ী, ননদ, দেবরদের নিয়ে সংসার করতে হত। এই গুলো ব্যবহারিক প্রয়োজন দ্বারা যে অনুপ্রাণিত ছিল, তা পাঠক মাত্রেই বুঝতে পারবেন। আমার মনে হয়, একান্নবর্তী পরিবারের মধ্যে অনেক গুলো আকাঙ্ক্ষার মধ্যে একটা আকাঙ্ক্ষা প্রবল হয়ে আত্মপ্রকাশ করত। মানুষ হতেও মানুষের যে প্রতিকূলতা আছে তা থেকে আত্মরক্ষার জন্য একটি শক্তির প্রয়োজনীয়তা, এবং সেই শক্তি হল যৌথ পরিবার, আর সেই যৌথ পরিবার কে সযত্নে রক্ষা করা।

আমি সমাজতাত্ত্বিক বা শব্দ বিশেষজ্ঞ নই, তবুও আমার মনে হয় “পাড়া” এই ধারণাটা এই যৌথ পরিবার থেকেই এসেছে। তা প্রত্যেক যৌথ পরিবারেই একজন করে অভিভাবক থাকতেন, যাঁরা যৌথ পরিবারের প্রত্যেকের অভাব অভিযোগের দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতেন। সাধারণত তাঁদের পরিচিতি “কত্তা” নামেই হত। “পাড়া” হত ( ইচ্ছে করেই অতীত ব্যবহার করলাম) কতক গুলো যৌথ পরিবারের সমষ্টি। এখানেও একাধিক “কত্তা” থাকতেন, যাঁদের ‘দাদা’ বলা হত।‘দাদা’ মানেই বড় ভাই আর এটা ষ্পষ্ট যে এঁরা কিন্তু রক্তের সর্ম্পকের না হলেও , ‘দাদা’ হিসেবেই আমাদের দায়ে অদায়ে ঝাঁপিয়ে পড়তেন।

তা যা বলছিলাম, সেই ঋগ্বেদের যুগ থেকে কিছুদিন আগে পর্য্যন্ত যৌথ পরিবারের অস্তিত্ব ছিল। আর সেই যৌথ পরিবারে কিছু এমন সদস্যও থাকতেন, যাঁরা আবার গ্রাম সর্ম্পকে বা দূর সর্ম্পকের আত্মীয়। সব মিলিয়ে একটা জমজমাটি ব্যাপার।বেকার, সকার, নিষ্কর্মা, সব ছিল।

দেশ ভাগ হবার পর চেহারাটা একটু একটু করে বদলাতে শুরু করল। অর্থনৈতিক অবস্থাও ভেঙ্গে পড়তে লাগল।(শ্রী প্রফুল্ল রায়ের উপন্যাস আর গল্পে এর প্রতিফলন আছে)

যৌথ পরিবারে সব মজার মধ্যে, কোথায় যেন সুর,তাল, লয় কেটে যাচ্ছিল। যারা রোজগার করেন, তাদের পাতে একটু ভালো মন্দ জিনিস, আর যারা করেন না; তাদের পাতে ওই থোড় বড়ি খাড়া বা খাড়া বড়ি থোড়।“পাড়া”তেও কিন্তু এর প্রভাব পড়তে শুরু করল। নিমন্ত্রণ বাড়ীতে কোমোরে গামছা বেঁধে পরিবেশন করার সময়, গানও তৈরী হলো—“ আরে যাদের পাতে মাথা মুড়ো, ওরাই কি তোদের জ্যাঠা খুড়ো?” ফলে,ম্যাটিনী শো এর টিকিট, মা, জেঠাইমা, খুড়ীমাদের কেটে দেওয়ার লোকের অভাব। ঘরে বসে, রঙ্গ মিলন্তি তাস আর কাঁহাতক খেলা যায়? পরনিন্দা, পরচর্চা শুরু হলো, আর জমতে লাগলো ধূমায়িত অসন্তাষ। আরও একটা ব্যাপার শুরু হলো, খুব আস্তে।“লভ ম্যারেজ”।“কত্তা”রা এই “লভ ম্যারেজ” ব্যাপারটা মেনে নিতে পারতেন না; নানা কারণে। জাত, পাত, সম্ভ্রম, আভিজাত্য সব মিলিয়ে একটা ভজকট ব্যাপার। ব্যাপারটা যেখানে গিয়ে দাঁড়াল,যারা “লভ ম্যারেজ” করত, তারা আলাদা হতে থাকল। একটা আপাত স্বাধীনতা, এদের কে আর যৌথ পরিবারের দিকে আকর্ষণ করতে পারল না।

এরপর, জীবিকার প্রয়োজনে.. দেশে, বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে লাগল যৌথ পরিবারের লোকেরা। প্রথম প্রথম চিঠি- চাপাটি, তারপর প্রাথমিক উচ্ছাস কেটে গেলে; কমে যেতে লাগল যৌথ পরিবারের বন্ধন। জীবন যাত্রার মানও বদলাতে লাগল । স্বাভাবিক ভাবেই একই যৌথ পরিবারের লোক হলেও একটা অলিখিত ফারাক চলে এল। বাংলা ও বাঙ্গালি বদলাতে লাগল। বদলাতে লাগল, রুচি, ভাষা। রান্নাঘরেও এল অন্য স্বাদ। যে বাঙ্গালি অর্দ্ধেক ডিম খেত, যৌথ পরিবারে; তাদের সন্তানরা খেতে লাগল দুটো করে ডিম। মুড়ি, বাদাম হটে গিয়ে এল চাউমিঁএ। মুরগী আর বাইরে রান্না করতে হল না। বড় বাড়ী, প্রমোটিং এ চলে গেল। “যত্ত সব ফালতু সেন্টু” বলার লোক বেড়ে চলল। অণু পরিবারে ২ টাকায় সারাজীবন বসে খাওয়ার পিঁড়ি অদৃশ্য।

নিমন্ত্রণ খাওয়াবার জন্য গামছা পড়া পাড়ার ছেলে ছোকরা? তারাও যাদুবলে ভ্যানিশ। ক্যাটারারের আবির্ভাব হল। “দাদা, এদিকে আরও দশ পিস মাছ” বলা উঠেই গেল। সব ক্যালরি কনসাশ!“দাদা, এদিকে জল দেখি” আর কেউ বলে না। “এই যে, জল টা নাচান তো” বলার লোক বেড়ে চলল।

বাবা, মা গর্ব করে বলতে লাগল--- ছেলে না, বাংলাটা বলতে পারে; কিনতু পড়তে লিখতে পারে না।

পাড়ার রক আর নেই। ফলে, টেনিদা, ঘনাদা নেই। ঠাকুমার ঝুলি নেই। হ্যারি পটারের লেটেস্ট এডিশন কেনার জন্য ভোর থেকে লম্বা লাইন।

ঠাকুমা, ঠাকুরদারা সব বৃদ্ধাশ্রমে। যৌথ পরিবার?????? “যত্ত সব ফালতু সেন্টু”!!!!!!!!!!

খালি আমরা কিছু পাগল লোক, লবেঞ্জুসের মত তারিয়ে তারিয়ে স্মৃতি টাকে চুষে চুষে খাচ্ছি।

আর কাজ নেই হে????? “যত্ত সব ফালতু সেন্টু”!!!!!!!!!!

Thursday, September 24, 2009

প্রাচীন কালে বস্তুর আকার ও পরিমাণ

সচরাচর কনুই থেকে মধ্যমার অগ্রভাগ পর্যন্ত পরিমাণকে আমরা ১ হাত বলে জানি।কিন্তু প্রাচীন কালের শাস্ত্রকারেরা এই পরিমানকে ১ হাত বলেন নি।তার কারন হিসেবে যেটা বলা হয়েছে যে; সকলের হাত সমান নয়। তাই আমার ১ হাত অন্য লোকের ১ হাত নাও হতে পারে। তাই শাস্ত্রকারেরা একটি “নির্দ্দিষ্ট মান” ঠিক করে দিয়েছেন। মধ্যমার ২য় ও ৩য় পর্বের মধ্যভাগকে; এক মানাংগুলি বা এক অঙ্গুলি বলে। সাধারণত এটা ৮ টি যবোদরের সমান। এবার যবোদর কি? যবোদর=যব+উদর, অর্থাৎ ১টা যবের উদর বা মধ্যের ভাগ। ৮ টা যব পর পর রাখলে তাদের মধ্যভাগের যে মাপ হবে তা এক অঙ্গুলি। এখনকার মতে ১.৩ ইঞ্চি বা ৩.৩ সে.মি. এর সমান।এটাই Standard বা Parameter.
সুতরাং; ৮ টি যবোদর = ১ অঙ্গুলি= ১.৩ ইঞ্চি বা ৩.৩ সে.মি.।
২৪ অঙ্গুলি= ১ হাত =২.৬ ফিট/৭৯.২ সে.মি.।
৪ হাত = ১ ধনু = ১০.৪ ফিট/ ৩১৬.৮ সে.মি.।
২০০০ ধনু = ১ ক্রোশ = ২ মাইল/ ৩.২৪ কিমি।
৪ ক্রোশ = ১ যোজন= ৮ মাইল/১২.৯৬ কিমি।

উৎস:- শ্রীজগন্মোহন তর্কালংকার প্রণীত "নিত্যপূজা পদ্ধতি"।